বিয়ের সকালে দধিমঙ্গল, ঘেঁটে দেখা আনুষ্ঠানিক ঐতিহ্য । Makes my wedding

 

হিন্দুবিবাহ ব‍্যাবস্থায় দধি মঙ্গল একটি গুরুত্বপূর্ণ রীতি ।এই দধি মঙ্গলকে স্ত্রী আচার হিসাবে ও আখ‍্যায়িত করা হয়। যে কোন শুভ কাজ ও শুভ অনুষ্ঠানে দধি একটি মঙ্গল সূচক দ্রব‍্য হিসাবে ব‍্যাবহার করা হয়।দধির খাদ্য‍গুনও সকলের জানা আছে।

হিন্দু বিবাহ ব‍্যাবস্থায় দধিমঙ্গলের রীতিটি মহাভারতের যুগ থেকেই চলে আসছে। পদ্মপুরানে ও দেবাদিদেব মহাদেবের ও মা দূর্গার বিবাহতে হিমালয় পত্নী মেনকা দধিমঙ্গল অনুষ্ঠান করেছেন ।তেমনি মা মনসা ও মুনি জগৎকারুর বিবাহ অনুষ্ঠানে মা দুর্গা দধি মঙ্গল করেন। বিপুলা লক্ষীনধরের বিবাহতে কমলাদেবি দধি মঙ্গল করেছেন,তার উল্লেখ ও আছে।

বিশেষ করে এই অনুষ্টানটি বরের শ্বাশুড়ী মা করেন এই জন‍্যই স্ত্রী আচার বলা হয়। নতূন বর কনের বাড়িতে প্রবেশ করার পর বিবাহের পূর্বে কনের বাবা নতূন বরকে

পুরোহিত কর্তৃক মন্ত্র উচ্চারণের মাধ‍্যমে, বিষ্ণুরূপে বরন করে বস্ত্র সামগ্ৰী দান করেন। বর এগুলি গ্ৰহন করে সেই নতূন বস্ত্র পরিধান করে। বর ও কনে সাত পাকে আবদ্ধ হওয়ার পূর্বে কনের মা এই দধি মঙ্গল অনুষ্ঠানটি করে থাকেন। কনের মা বরের হাত প্রথম দধি দিয়ে ও পরে জল দিয়ে ধৌত করে হাতে যে কোন মূল‍্যবান ধাতুর দ্বারা নির্মীত সীমাহীন বন্ধনের প্রতিক হিসাবে ‘অঙ্গুরী’ দিয়ে থাকেন । তারপর বর বিবাহ মণ্ডপে প্রবেশ করে ।

তেমনি কনেকে ও কনের মা কনের মূখে দধি স্পর্শ করিয়ে বিবাহ মণ্ডপে যাওযার অনুমতি দেন । পুরোহিত মশাই ও বিবাহের আশীর্বাদ অনুষ্ঠানের দিন থেকে শুরু করে বিবাহের যাবতীয় শেষ অনুষ্ঠান অব্দি দধির ব‍্যাবহার করে থাকেন ।

এই দধিমঙ্গল অনুষ্ঠান কে কেন্দ্র করে প্রাচীন কাল থেকেই লোকগীতির প্রচলন আছে, মহিলাগন একত্রিত বসে এই লোকগীতি পরিবেশন করে থাকেন। এই লোকগীতির প্রচলন শহরে তেমন দেখা না গেলেও, গ্ৰামে এর প্রচলন এখনো বহুল প্রচলিত আছে ।

(তথ্যসূত্র : Quora বাংলা)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *